কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এলাকায় ধোঁয়া দেখা যাওয়ার পর কাউকে দূতাবাসে না যেতে সতর্কবার্তা

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরদিন তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। এদিকে, কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। হেজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "আজ সকালে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।"
বিমানের ক্রুরা "অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন" এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।
একইসাথে তাদের শারীরিক অবস্থা “স্থিতিশীল” বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ঘটনাটির "পরিস্থিতি" নিয়ে তারা তাদের মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং "ঘটনার কারণ" অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ছবির উৎস, Reuters
উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে অবস্থিত এরবিল বিমানবন্দরের আকাশ থেকে তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিমানবন্দরটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে।
এর আগে এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সপ্তাহের শেষেও যুক্তরাষ্ট্র ওই বিমানবন্দরের আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করেছিল।

ছবির উৎস, EPA
প্রায় এক ঘন্টা আগে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ‘সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
এতে সবাইকে দ্রুত সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার কথা বলা হয়েছে।
প্রায় দশ মিনিট আগে আইডিএফ আরেক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানুষ এখন সুরক্ষিত স্থান ত্যাগ করতে পারবেন, তবে ওই স্থানগুলোর কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বিবিসি ফার্সিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরান নতুন মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা শুরু করেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি লিখেছে, “ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।”
ইরাকি শহর এরবিলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আলজাজিরায় খবরে বলা হয়েছে।
কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস ও এর আশেপাশের এলাকায় আগুনের ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং এএফপি এ খবর প্রকাশ করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সেখানে ফায়ার ফাইটার্স এবং অ্যাম্বুলেন্সও রয়েছে।
এরইমধ্যে, ধোঁয়া দেখা যাওয়ার পর দূতাবাসে কাউকে না যেতে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসাথে বাসায় শেল্টার নিতে অনুরোধ করেছে।
ইউএস অ্যাম্বাসি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলেছে, "দূতাবাসে আসবেন না। আপনার বাসস্থানের সবচেয়ে নিচতলায় এবং জানালা থেকে দূরে আশ্রয় নিন। বাইরে যাবেন না।"
একইসাথে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের "যেখানেই আছেন সেখানেই আশ্রয় নিতে, হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত হামলার আশঙ্কায় সতর্ক থাকতে" বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিজ নিজ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
দোহা ছাড়াও বাহরাইন এবং দুবাইতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তথ্য দিয়েছে।
এর আগে সোমবার মধ্যরাতের পর ইসরায়েল তার ভাষায় লেবাননে 'হেজবুল্লাহ ঘাঁটি' লক্ষ্য করে গোলা নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
ইসরায়েলের দাবি, তার আগে হেজবুল্লাহ তাদের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছে।
সোমবার ভোরের দিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এ হামলা চালানো হয়।
এদিকে, হেজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তারা ইরানের পাশে থাকবে, এবং মার্কিন স্থাপনা ও ইসরায়েলের ওপর হামলা অব্যহত রাখবে গোষ্ঠীটি।
লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। আরো ১৪৯জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আহত ও নিহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক বলে জানানো হয়েছে।

ছবির উৎস, Reuters
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো নেগোশিয়েশন বা সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
“ওমানের মধ্যস্থতার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা বসার” বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মি. লারিজানি ওই কথা লিখেছেন।
“আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা করবো না” এক্স এ লিখেছেন মি. লারিজানি।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্যা আটলান্টিককে জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “তারা কথা বলতে চায় এবং আমি কথা বলার জন্য রাজী আছি। তাই আমি তাদের সাথে কথা বলবো। তাদের এটা আগেই করা উচিত ছিল।”

ছবির উৎস, Reuters
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সেক্রেটারি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং সিনেট নেতাদেরকে ইরান সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করবেন।
এই ব্রিফিংটি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তার সরকারি সময়সূটি অনুযায়ী ক্যাপিটল হিলে মি. রুবিও হাউজ ও সিনেট নেতাদের সামনে ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলা ও পরবর্তী স্ট্রাটেজি জানাবেন।

ছবির উৎস, Reuters
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাইপ্রাসের একটি আরএএফ বেইজকে লক্ষ্য করে রোববার রাতে “সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা” করা হয়েছে।
সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোতিরিকে লক্ষ্য করে এই হামলা হয়।
তবে এই হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণাণয় বলেছে, “এই অঞ্চলে আমাদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং আমাদের কর্মীদের রক্ষা করতে ঘাঁটি থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান ‘বাছবিচারহীনভাবে হামলার’ কারনে ব্রিটিশ সেনা এবং নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব জন হেইলি।
হামলার সতর্কবার্তা জানিয়ে লেবাননের ৫০টিরও বেশি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।
চিহ্নিত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে।
এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা স্থানে চলে যান।”
এতে আরো বলা হয়েছে, “কেউ যদি হেজবুল্লাহর সদস্যদের কাছাকাছি বা তাদের স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করলে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।”

ছবির উৎস, berniesanders / Instagram
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
মি. স্যান্ডার্স রোববার ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, “ট্রাম্প বলেছেন তিনি ইরানকে হামলা করেছেন, কারণ ইরানের কাছে পারমানবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়, সত্যিই?”
গত জুনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো লিখেছেন, “এতো সেই প্রেসিডেন্ট, যিনি গত জুনে (১২দিনের যুদ্ধ) বলেছিলেন, ইরানের পারমানবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।”
মি. স্যান্ডার্স “ভিয়েতনাম, ইরাক, ইরান। আরেকটি মিথ্যা, আরেকটি যুদ্ধ” লিখে তার পোস্টটি শেষ করেছেন।
লেবাননে স্থানীয় সময় এখন ভোর ছয়টা।
ইসরায়েলি বাহিনী, সেখানকার ৫০টিরও বেশি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলার পর থেকে মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
নীচে বৈরুত এবং সিডনে লোকজন চলে যাওয়া ও যানজটের ছবি দেওয়া হল।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির উৎস, X / Keir Starmer
যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ এক ভিডিও বার্তায় এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
মি. স্টারমার বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের অংশীদাররা নিজেদের রক্ষায় আমাদের কাছ থেকে আরও সহায়তা চেয়েছে.... সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে আমাদের ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান আকাশে রয়েছে.... যেগুলো ইতোমধ্যেই সফলভাবে ইরানের হামলা প্রতিহত করছে।”
“কিন্তু হুমকি বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে তাদের উৎসমুখেই ধ্বংস করা অর্থাৎ তাদের সংরক্ষণাগারে বা যেসব লঞ্চার থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয় সেখানে” বলেন মি. স্টারমার।
যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে বলে জানান তিনি।
“ইরান যাতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে না পারে, ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে এবং এমন দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে যারা এই সংঘাতে জড়িত নয়, সে কারণেই আমরা এই অনুরোধ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি” বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির উৎস, Reuters

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির উৎস, Reuters
আসন্ন হামলার সতর্কবার্তা জানিয়ে লেবাননের ৫০টিরও বেশি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।
চিহ্নিত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে।
ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে খোলা স্থানে চলে যান।”
এতে আরো বলা হয়েছে, “কেউ যদি হেজবুল্লাহর সদস্যদের কাছাকাছি বা তাদের স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করেন, তাহলে তারা নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।”

ছবির উৎস, Donald Trump/Truth Social
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "যুদ্ধ অভিযান পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের সকল লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
কিছুক্ষণ আগে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, "দুঃখজনকভাবে আরো বেশি" মার্কিন সেনা হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সাথে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, "এটাই একমাত্র পথ।"
"যুক্তরাষ্ট্র তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে এবং সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা সন্ত্রাসীদের ওপর সবচেয়ে শাস্তিমূলক আঘাত করবে" বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরো বলেন, "আমি আবারও রেভুলেউশনারি গার্ডস, ইরানি মিলিটারি পুলিশকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি পাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি সতর্ক করেন, "নতুবা নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। এটি নিশ্চিত মৃত্যু হবে, এটি সুন্দর হবে না।"
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার পর বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে গেছে।
সোমবার এশিয়ার জ্বালানি বাজার খোলার শুরুতেই দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড এবং নিম্যাক্স লাইট সুইট ওয়েল দুইটির দামই ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাড়ার পরে কিছুটা কমলেও দাম উর্ধ্বমুখী রয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ দশমিক ৩০ ডলার, যা প্রায় নয় শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, নিমেক্স লাইট সুইট অয়েলের দাম প্রায় ৭২ দশমিক ৭০ ডলার, যা প্রায় আট দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের “স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে” প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
এই তিনটি রাষ্ট্র এক যৌথ বিবৃতিতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের “বাছবিচারহীনভাবে এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপনাস্ত্র হামলার” তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ তেহরানের প্রতি হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ও তাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে বিবৃতিতে তারা বলেছে, “আমরা আমাদের এবং এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নেব।
প্রয়োজনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের সক্ষমতা তাদের উৎসমুখেই ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।”

ছবির উৎস, Getty Images
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ফ্লোরিডার বাড়ি মার এ লাগো থেকে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর সাংবাদিকরা ইরান নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
হোয়াইট হাউজে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা চিৎকার করে ইরান সম্পর্কে জানতে চায় ট্রাম্পের কাছে।
তিনি এ বিষয়ে কোন কথা না বললেও মার এ লাগোর রোজ গার্ডেনের দুইটি নতুন মূর্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।