এপস্টেইন নিবন্ধ নিয়ে রুপার্ট মারডক ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা

ছবির উৎস, Getty Images
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত কিছু তথ্য অবমুক্ত করার জন্য একজন বিচারককে নির্দেশ দিয়েছে। মামলা পরিচালনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর এমন নির্দেশ দেয়া হলো।
এই নির্দেশটি ২০১৯ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে সরকারের যৌন পাচার মামলায় গ্রান্ডজুরিদের কাছ থেকে রিপোর্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দলিলাদি সাধারণত গোপন রাখা হয় এবং আইন দ্বারা সুরক্ষিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মূল কোম্পানি ডাও জোনস ও এর মালিক রুপার্ট মারডক এবং দুজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।
মি. ট্রাম্প ২০০৩ সালে এপস্টেইনকে একটি 'অশ্লীল' ব্যক্তিগত নোট লিখেছিলেন-এমন খবর প্রকাশের জের ধরে তিনি মামলাটি করেছেন।
তিনি বলেছেন পত্রিকাটি এপস্টেইনের ৫০তম জন্মদিনে নোট পাঠানোর যে খবর ছেপেছিলো সেটি 'ভুয়া'।
বৃহস্পতিবার তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে এপস্টেইন বিচারকদের কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছিলেন সে সম্পর্কিত দলিলাদি প্রকাশ করার অনুমতি চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
বিচার বিভাগ পরে নিউইয়র্কের একজন বিচারকের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। এতে কয়েক ডজন শিশু কিশোরী পাচার মামলায় তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিলো সে সম্পর্কিত দলিলগুলো 'জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবার যোগ্যতা অর্জন করেছে'- এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিচার বিভাগ যৌন পাচার ষড়যন্ত্র মামলায় শাস্তি পাওয়া গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের মামলার তথ্য প্রকাশেরও আবেদন করেছে।
বিচারকদের যে প্যানেল অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে কি-না সেটি যাচাই বাছাই করে, তাদের গ্রান্ড জুরি বলা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে যাদের পরিচয় গোপন রাখতে হয়।
গ্রান্ড জুরি বা এই বিচারক প্যানেলের কাছে থাকা তথ্যাদি সাধারণত আইন অনুযায়ী গোপন রাখা হয়। তবে জনস্বার্থে প্রয়োজনে একজন বিচারক সেটি উন্মুক্ত করতে পারেন।
শুক্রবার ট্রাম্প মিয়ামিতে ডাও জোনস, নিউজ কর্পোরেশন এবং মিডিয়া মুগল রুপার্ট মারডকের বিরুদ্ধে মিয়ামিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন ২০০৩ সালে ট্রাম্পের নামে এপস্টেইনের কাছে জন্মদিনের 'অশ্লীল' শুভেচ্ছা গেছে- এমন রিপোর্ট করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাকে অপবাদ দিয়েছে এবং মানহানি আইন ভঙ্গ করেছে।

ছবির উৎস, Getty Imag
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
"আমরা মিথ্যা, মানহানিকর, ভুয়া নিউজ আর্টিক্যাল প্রকাশের সাথে দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের জড়িত সবার বিরুদ্ধে মামলা করেছি," ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন।
তিনি বলেন, মারডক ও পত্রিকাটিকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিলো যে এই আর্টিক্যাল প্রকাশ করলে মামলা করা হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, "ট্রাম্পের নাম সম্বলিত একটি চিঠিতে একজন নগ্ন নারীর ছবিতে কয়েক লাইন টেক্সট ছিলো, যা মনে হচ্ছে মার্কার দিয়ে হাতে আঁকা"।
পত্রিকাটি বলছেন ট্রাম্প ও এপস্টাইনের কাল্পনিক কথোপকথন স্টাইলে টাইপ করা নোটটি তৃতীয় কারও লেখা ছিলো।
বৃহস্পতিবার আর্টিক্যালটি প্রকাশিত হবার পর ট্রাম্প এ ধরনের নোট লেখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি পোস্ট করেছেন: "এগুলো আমার লেখা নয়, আমারও কথাও নয়। আমি ছবিও আঁকি না"।
সর্বশেষ শুক্রবার প্রেসিডেন্টের বিশ্বস্ত কিছু সমর্থক এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও এপস্টেইন মামলা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
এদিকে কংগ্রেস সদস্যরা একটি পিটিশন পাশের জন্য চাপ দিচ্ছে যাতে করে এপস্টেইনের বিষয়ে যেসব তথ্যাদি আছে তার বড় অংশই প্রকাশ করা যায়।
রিপাবলিকান মারজরি টেইলর গ্রিনি ও ডেমোক্র্যাট আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-করটেজ এই উদ্যোগ নিয়েছেন।








